মার্কিন হাইপ্রোফাইল কূটনীতিকের ঢাকা সফরের উদ্দেশ্য কি চীনা করিডোর বানচাল?

ঢাকায় এই মুহূর্তে মাঠ বা রাজপথের রাজনীতি সরব নয়। কিন্তু তাই বলে যে রাজনীতি নিরব তা-ও নয়। বাংলাদেশের পলিটিশিয়ানরা যতো না রাজনীতি গরম করছেন তার চেয়ে বেশি গরম করছেন ৩ জন সাংবাদিক। এরা হলেন গৌতম লাহিড়ী, চন্দন নন্দী এবং জুলকারনাইন সায়ের। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো এই যে, বাংলাদেশের ওয়ার্কিং জার্নালিস্টরা যতো না এক্সক্লুসিভ খবর দিচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি দিচ্ছেন ওই ৩ জন। গৌতম লাহিড়ী, আমি যতো দূর জানি, এক বছর আগেও দিল্লি প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। দিল্লিতে বিজেপি এবং কংগ্রেস উভয় দলের বিগ বসদের সাথে তার ভালো যোগাযোগ। দিল্লিতে গৌতম সম্পর্কে বলা হয় যে, ঐব রং ধ বিষষ পড়হহবপঃবফ সধহ. গৌতম লাহিড়ী গত সপ্তাহে খুব সুনির্দিষ্টভাবে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান সাহাবুদ্দিন চুপ্পু খুব শীঘ্রই বিদায় নেবেন এবং তিনি আরো বলেছিলেন যে, এই বিদায়পর্ব সমাপ্ত হবে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যেই। আসলে হয়েছেও তাই। ওই দিকে জুলকারনাইন সায়ের ২০ জুলাইয়ের আগে এক ফেসবুক পোস্টে বলেছিলেন যে, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু খুব সহসাই চলে যাবেন। জুলকারনাইন সায়েরের এক্সক্লুসিভ সংবাদের প্রথম অংশ সত্য হয়েছে। তার সংবাদের দ্বিতীয় অংশ সত্যও হয়নি, আবার মিথ্যাও হয়নি। তিনি বলেছিলেন যে, চুপ্পুর স্থলাভিষিক্ত হবেন ক্যাবিনেট সেক্রেটারি নাসিমুল গনি। নাসিমুল গনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। তবে বর্তমানে তিনি চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে কাজ করছেন।রাজনৈতিক সংবাদ বিশ্লেষণ

যেহেতু এখন পর্যন্ত কাউকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে নির্বাচন করা হয়নি, তাই সায়েরের এক্সক্লুসিভ নিউজের পরবর্তী অংশ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকবে। বাংলাদেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন সে সম্পর্কে আমি কোনো জল্পনা-কল্পনায় যাচ্ছি না। কারণ, যখন জাতীয় সংসদ একজন নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করবে ততো দিনে যদি সংবিধানের সংস্কার/সংশোধন না হয় তাহলে যিনিই প্রেসিডেন্ট হন না কেনো, তিনি হবেন একজন ঠুঁটো জগন্নাথ। আর যদি এর মধ্যে সংবিধান সংস্কার/সংশোধিত হয় এবং প্রেসিডেন্টের হাতে আরো বেশি ক্ষমতা ন্যাস্ত হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনেক ভেবে চিন্তে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন।

আমার আজকের আলোচনা চুপ্পুর পদত্যাগ অথবা নতুন কে প্রেসিডেন্ট হবেন সে বিষয়ের ওপর কোনো আলোচনা নয়। কারণ, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার পরেই যদি একটি পর্বের অবসান হতো তাহলে এসম্পর্কে আরো কিছু লেখা যেতো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, ঘটনার এখানেই শেষ নয়। এনসিপি চুপ্পুর গ্রেফতার এবং বিচার চায়। রবিবার সন্ধ্যায় যখন এই লেখাটি লিখি তখন পর্যন্ত জামায়াত চুপ্পু সম্পর্কে ঐ রকম র‌্যাডিকাল কোনো দাবি তোলেনি। তারা শুধু বলেছে, চুপ্পুর পদত্যাগের ফলে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রের শেষ ছায়াটিও সরে গেলো।

চুপ্পুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সরকারের অবস্থান কি সেটি এখনো আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। সরকার বলার চেষ্টা করছে যে, এটি একজন হাই প্রোফাইল রাষ্ট্রীয় কর্ণধারের স্বাভাবিক এবং রুটিন পদত্যাগ। সংবিধানে পদত্যাগের অনুচ্ছেদ আছে। সেই মোতাবেক সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। তবে এখানে একটি ছোট্ট ‘কিন্তু’ রয়েছে। চুপ্পু যে পদত্যাগ পত্র লিখেছেন সেটি বেশ লম্বা। দেখাতে চেষ্টা করেছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু অতীতে আমরা দেশ ও বিদেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের যেসব পদত্যাগ দেখেছি, সেখানে ভাবসম্প্রসারণ করার মতো এতো লম্বা চওড়া ফিরিস্তি দিয়ে অসুখের বর্ণনা দেওয়া হয়নি। তিনি অসুস্থ, সেই সহজ কথাটির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কবে কোথায় তিনি বাইপাস সার্জারি করেছেন, কবে সিএমএইচে ট্রিটমেন্ট করিয়েছেন, কখন তিনি রোগের প্রকোপে সংজ্ঞাহীন হয়েছেন— এসব বিস্তারিত কথা সাধারণত লেখা হয় না। এত কথা লেখার প্রয়োজন হলো কেনো?

দ্বিতীয়ত, থাইল্যান্ডে চিকিৎসারত স্পিকার হাফিজ উদ্দিনকে জরুরি এত্তেলা দিয়ে দেশে ফেরত আনা। থাইল্যান্ড থেকে স্পিকারের রিটার্ন টিকেট কাটা ছিলো ২৬ জুলাই। সেখানে তাকে ২৩ জুলাই জরুরি ঝঁসসড়হ করা হয়। জরুরি এত্তেলা পেয়ে পরদিন অর্থাৎ ২৪ জুলাই বেলা ১টার মধ্যেই তিনি ঢাকা পৌঁছেন। একই দিন ৪ ঘণ্টা পর বিকাল ৫টা ১ মিনিটে নিজের স্বাক্ষরযুক্ত প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র স্পিকারের নিকট প্রেরিত হয়। স্পিকার তৎক্ষণাৎ সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং সংবিধান মোতাবেক নিজেই প্রেসিডেন্টের অস্থায়ী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এখানে একটি বিষয় সকলেই আলোচনা করছেন। সেটি হলো, এই মাত্রাতিরিক্ত তাড়াহুড়ো কেনো? দু চারদিন আগে বা দু চারদিন পরে পদত্যাগ করলে ক্ষতি কি হতো? ক্ষতি কি হতো সেটি আমাদের জানা নাই। তবে এই অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো দৃষ্টিকটু বটে। সূত্র: ইনকিলাব

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট