পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অবহেলা রোধে আসছে ‘সারপ্রাইজ টেস্ট

পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষকদের অবহেলা, কিংবা নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে ওভার ও আন্ডার মার্কিং ঠেকাতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে শিক্ষা প্রশাসন। ফল পুনঃনিরীক্ষার প্রচলিত নিয়মের বাইরে সরাসরি উত্তরপত্রের মূল্যায়ন মান যাচাই করতে ‘সারপ্রাইজ টেস্ট’ বা বিশেষ অডিট ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। নতুন এই নিয়মে ‘র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং’ বা দৈবচয়ন পদ্ধতিতে পরীক্ষকদের জমা দেওয়া খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, যেখানে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই এই ব্যবস্থা আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে।

পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন যুগোপযোগী করে সংশোধন করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশোধিত এই আইনে শুধু পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়মই নয়, উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষকদের গাফিলতি বা দায়িত্বেও অবহেলাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ফলে কোনো পরীক্ষকের বিরুদ্ধে মূল্যায়নে অনিয়মের প্রমাণ মিললে তিনি বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি শাস্তির মুখোমুখি হবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন থেকেই এই নতুন ব্যবস্থা আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষকদের খামখেয়ালি রুখতে চালু করা হচ্ছে এক ধরনের ‘সারপ্রাইজ টেস্ট’ বা বিশেষ অডিট ব্যবস্থা।

এই ব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে ‘র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং’ বা দৈবচয়ন পদ্ধতি। এর আওতায় পরীক্ষকেরা উত্তরপত্র বোর্ডে জমা দেওয়ার পর, সেখান থেকে লটারির মতো করে নির্দিষ্টসংখ্যক খাতা বাছাই করা হবে। এরপর বোর্ড মনোনীত বিশেষজ্ঞ বা প্রধান পরীক্ষকদের মাধ্যমে সেগুলো পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। এই যাচাই প্রক্রিয়ায় যদি প্রথম ও দ্বিতীয় মূল্যায়নের নম্বরের মধ্যে অস্বাভাবিক কোনো পার্থক্য বা অযৌক্তিক ওভার/আন্ডার-মার্কিং ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কোনো পরীক্ষা নয় বরং পরীক্ষকদের কাজের মান যাচাইয়ের একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা। এতদিন একজন পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে জমা দেওয়ার পর সেটি সাধারণত আর যাচাই করা হতো না। ফলে মূল্যায়নে কোনো ভুল, অবহেলা বা অসঙ্গতি থাকলেও তা অনেক সময় ধরা পড়ত না। নতুন ব্যবস্থায় সেই সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলছে, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নানা ধরনের অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার ঘটনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়েও এমন অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে তথ্য গোপন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত খাতা নেওয়ার অভিযোগে তিন পরীক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট