মিশরের সঙ্গে ড্র, ঝুলে রইল ইরানের ভাগ্য
নতুন প্রভাত ডেক্স
ম্যাচের তখন অন্তিম সময়। মিশরের জালে বল পাঠিয়ে বাঁধনহারা উল্লাসে মাতলেন সোজা খালিলজাদেহ। আনন্দের বিস্ফোরণ হলো ইরান শিবিরেও। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তা রূপ নিল চরম হতাশায়। খালিলজাদেহ মিলিমিটার ব্যবধানে অফসাইডের জালে আটকা পড়ায় হলো না গোল। ঝুলে গেল ইরানেরও বিশ্বকাপ নকআউটের ভাগ্য।
সিয়াটলে বাংলাদেশ সময় শনিবার ১-১ ড্রয়ে শেষ হয় ‘জি’ গ্রুপের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি।
গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচই ড্র করল ইরান।
ড্রয়েও গ্রুপ রানার্স আপ হিসেবে নকআউটে উঠে গেছে মিশর। তাদের সমান ৫ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে বেলজিয়াম। একই সময়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তারা নিউজিল্যান্ডকে হারায় ৫-১ গোলে।
তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ইরান। এই পর্বে তারা তিন গোল হজম করলেও দিয়েছেও তিনটি। তৃতীয় হওয়া সেরা আট দলের একটি হিসেবে শেষ বত্রিশে যাওয়ার ভালো সুযোগ আছে মধ্যপ্রাচ্যের দলটির।
অথচ তারা ভেবেছিল নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে গেছে। কিন্তু ভিএআরের চুলচেরা অফসাইডের সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। একটু পর তা তাদের হতাশা বাড়ে আরেক দফায়। ইরানের আলিরেজা জাহানবাখশের হেড লাগে ক্রসবারে।
শুরুতে পেনাল্টি মিস করে পরে পেছন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ সময়ে বল জালে পাঠালেও স্মরণীয় জয় পাওয়া হলো না ইরানের, নকআউটের জন্য তাদের এখন তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদের দিকে।
শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল টান টান উত্তেজানা। চতুর্থ মিনিটে মাহমুদ সাবেরের গোলে এগিয়ে যায় মিসর।
অষ্টম মিনিটে ইরানের একটি বিপজ্জনক আক্রমণ রুখে দেন মোহামেদ হেনি। তবে পরের মিনিটেই পেনাল্টি পেয়ে যায় ইরান।
গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছিলেন মেহদি তারেমি। বাধা দিতে গিয়ে তার পায়ের অগ্রভাগে মেরে বসেন মোহামেদ আব্দেলমোমেন। কোনো দ্বিধা না করে পেনাল্টি দেন রেফারি। শট নেন তারেমি নিজেই। কিন্তু ইরানের সবচেয়ে বড় তারকা ও দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলস্কোরার এবার ব্যর্থ। বাঁদিকে ঝাপিয়ে দারুণভাবে তার শট আটকে দেন গোলকিপার মোস্তাফা শুবির।
একটু পরই অবশ্য গোল পেয়ে যায় ইরান। ১৪তম মিনিটে বাঁদিক থেকে আক্রমণে উঠে মিলাদ মোহাম্মাদি জোরাল বাঁকানো শট গোলকিপার শুবির পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। দূরের পোস্ট থেকে টোকায় বল কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পাঠান রামিন রেজাইয়ান।
বাকি সময়ে মাঠে কেউ ছাড় দেয়নি। ম্যাচে ঠিল হলুদ কার্ডের ছড়াছড়ি। হলুদ কার্ড পেয়েছেন—মিশরের লাশিন ও ইব্রাহিম, ইরানের কানানি, নেমাতি, এজাতোলাহি ও খালিলজাদেহ।
সূত্র: ইনকিলাব
