চার ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম বন্দরের তেলবাহী জাহাজের আগুন

নতুন প্রভাত ডেস্ক

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করা তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমটি মেঘনা ট্রেডার্স-এর ইঞ্জিন রুমে লাগা আগুন প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এর আগে ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম বহির্নোঙর-এর পার্কি বিচ সংলগ্ন আউটার অ্যাংকরেজের চার্লি পয়েন্টে অবস্থানরত জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আকস্মিকভাবে আগুন লাগে।

ঘটনার পরপরই জাহাজে থাকা ক্রুদের দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) সিস্টেম সক্রিয় করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট কাণ্ডারি-৩ ও কাণ্ডারি-১১, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টাগবোট বিএনটি সেবক এবং কোস্ট গার্ডের টাগবোট প্রমত্ত।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর জাহাজ শ্যামল বাংলা এবং একাধিক অগ্নিনির্বাপণ দলও অভিযানে যুক্ত হয়। যৌথভাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ পারসোনেল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন জানান, জাহাজটি ইন্দোনেশিয়া থেকে আরবিডি সয়াবিন তেল নিয়ে গত ২৬ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। এরপর এটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চার্লি পয়েন্টে অবস্থান করছিল।

তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় জাহাজে থাকা মোট ২২ জন ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেনি, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সহায়ক হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিন রুমে যান্ত্রিক ত্রুটি বা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হলেও বিষয়টি তদন্তের পর নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে জাহাজটির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী এবং জাহাজের স্থানীয় এজেন্ট ইউএসএল যৌথভাবে কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
সূত্র: ইনকিলাব

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট