সাইবার সুরক্ষা আইনে মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় সংগীত অবমাননাকারীদের দায়মুক্তি
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রোপাগান্ডা ও প্রচারণা চালানো বা মদদ দেওয়ার সব মামলা বাতিল করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এসব অপরাধে আদালতে যদি কোনো ব্যক্তির দণ্ড বা জরিমানা হয়ে থাকে সেগুলোরও দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইনে এসব মামলা বতিলসহ অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত ১০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’ বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’ রহিত করে এই নতুন আইন পুনঃপ্রণয়ন করা হয়েছে।এই আইনের বিলে ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন রহিত করা হয়। এর আগে, ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন ও রহিত করে ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন পাস করেছিল তৎকালীন আওয়ামী সরকার। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রহিত হওয়ার আগে দায়ের করা মামলা চলমান রাখা হয়েছিল। কিন্তু, ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারার চলমান মামলা ও নিষ্পতি হওয়া মামলার রায় বাতিল করা হয়েছে।একইভাবে, ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারার চলমান মামলা ও নিষ্পতি হওয়া মামলার রায় বাতিল করা হয় ২০২৬ সালের নতুন আইনে।২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫০ ধারায় ‘২০২৩ সালের ৩৯ নম্বর আইনের রহিতকরণ ও হেফাজত’ সংক্রান্ত উপধারা-৫ এ বলা হয়, ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ ও ২৯ ধারাগুলোর বর্ণিত অপরাধ সংঘটন ও সহায়তার অপরাধে কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে নিষ্পন্নাধীন কোনো মামলা বা অন্যান্য কার্যধারা অথবা কোনো পুলিশ অফিসার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্তাধীন মামলা বা কার্যক্রম বাতিল হবে এবং এ বিষয়ে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না এবং উক্ত ধারাগুলোর অধীন কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ড ও জরিমানা বাতিল বলে গণ্য হবে। ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘জাতির পিতা’, ‘জাতীয় সংগীত’ অবমানাকারীদের শাস্তি মাফ ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১ ধারার উপধারা-১ -এ বলা আছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা তাতে মদদ প্রদান করেন, তা হলে ওই ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হবে একটি অপরাধ।’ আইনের ২১ ধারার দুই উপধারায় বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তা হলে তিনি অনধিক ১০ বছরর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।আইনের ২১ ধারার তিন উপধারায় বলা আছে, যদি কোনো ব্যক্তি উপধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা তিন কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
