আয় বাড়াতে আরইবির ওপর দায় চাপাতে চাইছে পিডিবি, চাপে পড়বে গ্রামের বিদ্যুৎ

দেশজুড়ে ৮০টি সমিতির মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। পাঁচ দশক ধরে তুলনামূলক কম দামে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে সংস্থাটি। আরইবিতে লোকসানে থাকা সমিতিগুলোকে টিকিয়ে রাখা হয় লাভজনক কয়েকটি সমিতির আয়ে। কিন্তু এখন নিজেদের আর্থিক ঘাটতি কমাতে আরইবির ওপর চাপ তৈরি করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) জমা দেওয়া নতুন প্রস্তাবে পিডিবি বলেছে, আরইবির লাভজনক সমিতিগুলোর জন্য তারা পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায়। তবে আরইবির কর্মকর্তারা বলছেন, গত অর্থবছরে প্রকৃত মুনাফা করেছে মাত্র ১৩টি সমিতি। আর চারটি সমিতি লোকসান করেনি। বাকি ৬৩টি সমিতি টিকিয়ে রাখতে লাভজনক সমিতি থেকে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। পিডিবির প্রস্তাব কার্যকর হলে গ্রামীণ বিদ্যুৎ সরবরাহের বর্তমান কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। এটি সরকারের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ২০ ও ২১ মে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে অংশীজনদের নিয়েই পিডিবির প্রস্তাব যাচাই বাছাই করা হবে। এরপর ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। পিডিবির দাবি, অন্য বিতরণ সংস্থার চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ পায় আরইবি। তাই আরইবি বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে গড় পাইকারি দাম কমে যায়। প্রতি ইউনিটের পাইকারি দাম এখন ৭ টাকা ৪ পয়সা হলেও পিডিবি পাচ্ছে ৬ টাকা ৯৯ পয়সা। ভর্তুকির বেশির ভাগ খরচ হয় আরইবির পেছনে।

পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে আরইবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনছে ৬ টাকা ২৪ পয়সায়। অথচ খুচরা পর্যায়ে গড়ে তারা বিক্রি করছে প্রায় সাড়ে আট টাকায়। প্রতি ইউনিটে এত বেশি আয় আর কোনো বিতরণ সংস্থা করে না। সর্বোচ্চ ৮ টাকা ৫৮ পয়সায় বিদ্যুৎ কেনে ডেসকো, আর বিক্রি করে ১০ টাকা ৪০ পয়সায়। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আরইবির ২১টি সমিতির গ্রাহক কাঠামো অনেকটাই ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডেসকো ও ডিপিডিসির মতো। এসব সমিতিতে প্রতি ইউনিটে গড় বিল আসে ৯ টাকা ৩৬ পয়সা। অন্যদিকে বাকি ৫৯টি সমিতিতে গড় বিল ৭ টাকা ৮৫ পয়সা। তাই এই ২১টি সমিতিকে আলাদা করে শহরাঞ্চলের মতো পাইকারি দাম নির্ধারণ করলে পিডিবির আয় বাড়বে।

পিডিবির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, খুচরা পর্যায়ে সব গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের দাম একই। তবে পাইকারি দাম বিতরণ সংস্থা অনুসারে আলাদা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটির আর্থিক ঘাটতির ৬৩ শতাংশই হয়েছে আরইবিকে কম দামে বিদ্যুৎ দেওয়ার কারণে। আগামী বছর এই চাপ আরও বাড়বে। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির বোঝা কমাতেই আরইবি থেকে আয় বাড়ানোর উপায় বের করা হয়েছে। ভর্তুকির চাপ কমলে গ্রাহকের ওপর বাড়তি দামের চাপ তৈরি করা লাগবে না। সূত্র: প্রথম আলো

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট