বিশ্বজুড়ে নতুন ভাইরাস ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’, হু’র বিশেষ সতর্কবার্তা
নতুন প্রভাত ডেস্ক
ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহলে। গবেষকেরা বলছেন, এই ভাইরাস এখনো মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েনি, তবে পশু থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমণের কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে ভবিষ্যতে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানিয়েছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস মূলত চার ধরনের—এ, বি, সি ও ডি। এর মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এবং বি মানুষের মধ্যে মৌসুমি ফ্লু সৃষ্টি করে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি মূলত গবাদিপশু, বিশেষ করে গরুর মধ্যে বেশি দেখা যায়। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে স্থায়ীভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ মেলেনি।
সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পশু খামারে কাজ করা কিছু মানুষের শরীরে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। এর অর্থ, তারা কোনো একসময় ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসেছিলেন। তবে গবেষকেরা এখনো নিশ্চিত নন যে এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সহজে ছড়াতে পারে কি না।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। গবেষকদের মতে, ভাইরাসটি মানুষের শ্বাসতন্ত্রের কোষে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও এটি এখনো বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট সৃষ্টি করেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি কোনো নতুন ভাইরাস নয়। এটি প্রথম শনাক্ত হয় ২০১১ সালে। দীর্ঘদিন ধরে এটি মূলত গবাদিপশুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটার সম্ভাবনা থাকায় বিজ্ঞানীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
করোনাভাইরাস মহামারির অভিজ্ঞতার কারণে এখন যেকোনো প্রাণীজ ভাইরাসকেই বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীরা জোর দিয়ে বলছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বর্তমানে মানুষের মধ্যে এ ভাইরাসের টেকসই সংক্রমণের প্রমাণ নেই।
গবেষকদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য হলো দ্রুত রূপ পরিবর্তন করা। এ কারণেই ভাইরাসগুলোকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বিশেষ করে প্রাণী ও মানুষের সংযোগস্থলে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খামারে কাজ করা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। অসুস্থ পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমানে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাসকে ঘিরে বৈশ্বিক মহামারির কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে ভাইরাসটির আচরণ ও বিবর্তন নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: ইনকিলাব
