ভারতে এক দশকে সংখ্যালঘুদের ওপর ৩৫০০ হামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে ‘হেট ক্রাইম ট্র্যাকার’ চালু
ভারতজুড়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে চালানো সহিংসতা এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য নথিভুক্ত করার লক্ষ্যে একটি অনলাইন ‘হেট ক্রাইম ট্র্যাকার’ চালু করেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অফ সিভিল রাইটস (এপিসিআর)। সংস্থাটির দাবি, এটি ২০১৪ সাল থেকে ঘটে যাওয়া যাচাইকৃত ঘটনাগুলোর একটি উন্মুক্ত ডিজিটাল ভাণ্ডার বা রিপোজিটরি হিসেবে কাজ করবে। গত বুধবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় এই প্ল্যাটফর্মটি উদ্বোধন করা হয়। ‘এপিসিআর হেট ক্রাইম ট্র্যাকার’ নামের এই ডাটাবেসটি বিশেষ করে মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক সহিংসতা ও হুমকির ঘটনাগুলো একত্রিত করেছে। গবেষক, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি অনুসন্ধানযোগ্য তথ্যভাণ্ডার হিসেবে নকশা করা হয়েছে।
এপিসিআর-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ভারতজুড়ে ৩,৫৭৬টি ধর্মভিত্তিক ঘৃণাজনিত ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর মধ্যে ৭৪৭টি শারীরিক আক্রমণের ঘটনা এবং ৩৭৬টি সম্পত্তির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ধর্মীয় পরিচয় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠা বা দৃশ্যমান হওয়া ছিল সহিংসতার সবচেয়ে বড় কারণ, যার সংখ্যা ৯০৮টি। এর পরেই রয়েছে আমিষ খাবার কেনা বা খাওয়া সংক্রান্ত ৫৪৭টি এবং ধর্মীয় উৎসব পালন কেন্দ্রিক ১৬৬টি ঘটনা। বর্তমানে এই ট্র্যাকারে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে, যেখানে ১,১৫৩টি ঘৃণাজনিত অপরাধ এবং ৭৬১টি ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগের বছরগুলোর তথ্য ধাপে ধাপে এই পোর্টালে আপলোড করা হবে।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) মতো সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ঘৃণাজনিত অপরাধের কোনো পদ্ধতিগত নথি না থাকার কারণেই মূলত এই বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এপিসিআর-এর আইনজীবী ফাওয়াজ শাহীন বলেন, তারা নিয়মিত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৪ সাল থেকে ঘৃণাজনিত অপরাধের একটি শক্তিশালী ডাটাবেস তৈরির চেষ্টা করেছেন। তবে এই ট্র্যাকারটি শুধুমাত্র জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় অনেক অপ্রকাশিত ঘটনা এতে বাদ থেকে যেতে পারে। প্রতিটি ঘটনা নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া ও পাবলিক সোর্সের তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং জাতিসংঘের ‘রাবাত প্ল্যান অফ অ্যাকশন’ কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে হর্ষ মান্দার, প্রশান্ত ভূষণ, পামেলা ফিলিপোজ এবং অপুর্বানন্দের মতো বিশিষ্ট আইনজীবী ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ঘৃণাজনিত সহিংসতার ক্ষেত্রে অপরাধীদের ক্রমবর্ধমান ‘দায়মুক্তি’ এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা মন্তব্য করেন যে, ঘৃণামূলক বক্তব্য কীভাবে সরাসরি শারীরিক সহিংসতায় রূপ নেয়, এই ট্র্যাকারটি তার একটি প্রামাণ্য দলিল হয়ে থাকবে। এপিসিআর জানিয়েছে, নতুন ঘটনাগুলো যাচাই হওয়ার সাথে সাথে এই ট্র্যাকারটি নিয়মিত আপডেট করা হবে। সূত্র: ইনকিলাব
