হাফেজদের হাতে সমকামী লেখকের বই : সংসদে শরিয়াহবিরোধী আইন পাসের চেষ্টা অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ —বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন

সম্প্রতি সউদী আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইসরাইলি লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির ‘নেক্সাস’ বইটি উপহার হিসেবে প্রদান এবং সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ২০২৬’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের ঐতিহ্যবাহী অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদারের্ছীন। সংগঠনের সভাপতি আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীন ও মহাসচিব প্রিন্সিপাল শাব্বীর আহমদ মোমতাজী গতকাল যৌথ এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা কোরআনের কোমলমতি হাফেজদের সংবর্ধিত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কিন্তু তাদের হাতে সমকামিতাকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য উপস্থাপনকারী লেখকের বই তুলে দেওয়া কোনো নিছক ভুল হতে পারে না। একইসাথে আইন মন্ত্রীর ইসলামি শরিয়াহ্ পরিপন্থি ও বিতর্কিত আইনের বিল পাশের যে উদ্বোগ এসবই একসূত্রে গাঁথা, উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করে সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিতর্কিত করতে এবং তার ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে তার আশেপাশে থাকা কিছু সুবিধাভোগী ও কুচক্রী মহল বন্ধু সেজে এই গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। উপহার হিসেবে এমন বই নির্বাচনের পেছনের কুশীলবদের চিহ্নিত করে তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে তার পরামর্শকদের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে, যারা প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে ইসলাম ও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভূতিবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে। নেতৃদ্বয় প্রধানমন্ত্রীকে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে জনগণের ‘পালস’ বা মনস্তত্ত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, দেশের সিংহভাগ মানুষের ধর্মীয় আবেগ ও আকিদা রক্ষা করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয়। তার মরহুম পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুমা মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের আপামর জনতার ধর্মীয় অনুভূতিকে সর্বদা সম্মান করতেন বলেই তারা দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে পরম শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত হতে পেরেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের মূলধারার সত্যপন্থী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সম্মানিত আলেম-ওলামাদের সাথে নিয়মিত পরামর্শের ভিত্তিতে যাবতীয় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ জনান।ইসলামিক কোর্স করুন

ইসলামে সমকামিতা ও অনৈতিকতার স্থান নেই। এটি মানবজাতির ওপর আল্লাহর চরম গজব ডেকে আনে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা হযরত লুত (আ.)-এর কওমের ওপর অবতীর্ণ শাস্তির বিবরণ দিয়ে বলেন, অতপর যখন আমার আদেশ এসে পৌঁছাল, তখন আমি উক্ত জনপদকে উল্টে দিলাম এবং তাদের ওপর একাধারে পোড়ামাটির পাথর বর্ষণ করলাম (সূরা হূদ: ৮২)। রাসূলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তোমরা লুত (আ.)-এর কওমের ন্যায় অনৈতিক কাজে লিপ্তদের বিষয়ে কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করো এবং এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ থেকে দূরে থাকো। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ২০২৬ বিষয়ে আলেম সমাজ যে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। বাবা-মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মানবিক উদ্দেশ্য প্রশংসনীয় হলেও, ইসলামী শরিয়াহর ফারায়েজ ও হেবার নির্ধারিত বিধিবিধানকে ডিঙিয়ে কোনো আইন প্রণয়ন করা যাবে না। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে শরিয়াহবিরোধী হস্তক্ষেপ বা ওয়ারিশদের হক নষ্ট করার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহ তাআলা মিরাসের বিধান স্পষ্ট করার পর কুরআনে ঘোষণা করেছেন, এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানি করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন, সেখানে সে স্থায়ী হবে (সূরা নিসা: ১৩-১৪)। রাসূলুল্লাহ (সা.) ওয়ারিশদের হক নষ্ট করার ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ওয়ারিশের মীরাস (উত্তরাধিকার) কেটে দেয় বা বঞ্চিত করে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা জান্নাতে তার উত্তরাধিকার কেটে দেবেন (ইবনে মাজাহ)।

বিবৃতির শেষে জমিয়াত নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের পক্ষ থেকে আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই, যেকোনো রাষ্ট্রীয় আইন ও ধর্মীয় সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ আলেমদের মতামত নিন। অনতিবিলম্বে বিতর্কিত বই বিতরণের সুষ্ঠু তদন্ত করুন এবং জাতীয় সংসদের আইনি সংশোধনীগুলোকে ইসলামী শরিয়াহর সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। সূত্র: ইনকিলাব

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট