পুঠিয়ায় সৎ ছেলেকে হত্যার দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ড
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সাত বছরের সৎ ছেলে রিফাতকে শ্বাসরোধ ও গলা কেটে হত্যার দায়ে মোহাম্মদ আলী (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আলী নাটোর সদর উপজেলার একডালা এলাকার বাসিন্দা। ২০১৯ সালের ২৮ মে রিফাতকে হত্যার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে হাজির ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী ২০১২ সালের দিকে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হন। ঘটনার প্রায় সাত মাস আগে তিনি বুলবুলি খাতুনকে বিয়ে করেন। বুলবুলির প্রথম স্বামীর সন্তান ছিল রিফাত। স্ত্রী নতুন করে সন্তান নিতে না চাওয়ায় সৎ ছেলে রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোহাম্মদ আলী। ২০১৯ সালের ২৮ মে সন্ধ্যায় নাটোর সদর উপজেলার একডালা এলাকার একটি মসজিদে ইফতার ও নামাজ শেষে বের হয় রিফাত। এ সময় তরমুজ কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে সাইকেলে তুলে নেন সৎ বাবা মোহাম্মদ আলী। পরে নাটোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানোর পর তাকে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সেনভাগ এলাকার একটি কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে রিফাত বিষয়টি বুঝতে পেরে মোহাম্মদ আলীর হাতে কামড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন তাকে ধরে প্রথমে গলাটিপে হত্যা করা হয়। পরে ছুরি দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ আলী। হত্যার পর রাতে একা বাড়ি ফেরেন তিনি। পরে রিফাতের মা ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আলী অস্বাভাবিক আচরণ করেন। এতে সন্দেহ হলে আত্মীয়স্বজন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রিফাতকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুঠিয়ার সেনভাগ এলাকা থেকে রিফাতের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়।
তবে আদালতের পেশকার জানান, মোহাম্মদ আলী কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন নি। পরে আদালত তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ করেন। আসামির স্বীকারোক্তি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালতের বিচারক।
