ইরানে খামেনির শেষ বিদায় শ্লোগানে উত্তাল তেহরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে গতকাল রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে এক আবেগঘন ও উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কয়েক হাজার শোকাতুর মানুষ সেখানে সমবেত হয়ে উচ্চস্বরে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ’ স্লোগান তুলছেন। চার মাস অপেক্ষার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন কর্মসূচি শুরু হয়, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার সকাল থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স এবং সংলগ্ন এলাকা সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, শোকের প্রতীক হিসেবে অনেকেই লাল পতাকা হাতে নিয়েছেন, যা ইরানি সংস্কৃতিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণের সংকল্পকে নির্দেশ করে। ভোর হওয়ার আগেই মানুষের ঢল সামলাতে মেট্রো স্টেশনগুলোতে ছিল প্রচণ্ড ভিড়, জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের গন্তব্য ছিল এই বিশাল ধর্মীয় চত্বর।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনির প্রাণহানি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো সেই ভয়াবহ হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছিলেন। নিরাপত্তা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে দাফন প্রক্রিয়া দীর্ঘ চার মাস স্থগিত রাখার পর, বর্তমান যুদ্ধবিরতির সুযোগে সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষ বিদায়ের এই আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে, যা গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে।

খামেনির এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানটি বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান, ইরাক, তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, ওমান ও মিসরসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা শোক প্রকাশ করতে তেহরানে উপস্থিত হয়েছেন। এছাড়াও ভারত, চীন, রাশিয়া, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিনিধিদল এবং হিজবুল্লাহ ও ইসলামিক জিহাদের মতো বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতারা খামেনির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, খামেনির মৃত্যু পরবর্তী সময়ে ইরান তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনবে না। তেহরানের এই শেষ বিদায়ের মঞ্চ একদিকে যেমন শোকার্ত, অন্যদিকে তা যেন ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের এক নতুন মহড়ায় পরিণত হয়েছে। সবার চোখ এখন দাফন পরবর্তী ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তাদের ঘোষিত ‘প্রতিশোধের’ দিকে। সূত্র: ইনকিলাব

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট