চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, কর্মচারীদের লাঞ্ছিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, কর্মচারীদের লাঞ্ছিত

চাঁদা না পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার তেলকুপি কলমদর আলিম মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়া, দাপ্তরিক কাজে বাধা এবং কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা।

অভিযোগ উঠেছে, চারটি পদে কর্মচারি নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে ও তার সহযোগিরা। সেই চাঁদার টাকা না দেওয়ায় অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত অধ্যক্ষের কক্ষে তাদের দেওয়া তালা ঝুলছিল। ফলে অধ্যক্ষ মাদ্রাসায় গেলেও তার কক্ষে তালা দেখে ফিরে যান।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জুলেখা খাতুন, মাকসুরা খাতুন এবং কর্মচারী সুলতান আলম ও মোমিনুল ইসলাম অধ্যক্ষের কক্ষে বসে ৬ষ্ঠ, দাখিল ও আলিম প্রথম বর্ষের উপবৃত্তির তথ্য সংক্রান্ত কাজ করছিলেন। এ সময় স্থানীয় শাহাবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এমরান আলীর ছেলে ইফতেখার আলম বাবু তার দুই সহযোগি বাইরুল ইসলাম ও বেনজির আহমেদসহ কয়েকজনকে নিয়ে অফিসে প্রবেশ করে দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পরে তারা কর্মচারীদের গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করে কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে অধ্যক্ষের রুমে তালা লাগিয়ে চলে যান।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম জানান, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি দুইজন তৃতীয় শ্রেণি ও দুইজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই ইফতেখার আলম বাবু ও তার দুই সহযোগী চাঁদা দাবি করে বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ এপ্রিল দাখিল পরীক্ষার বিদায় অনুষ্ঠান চলাকালে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এবার তার অনুপস্থিতিতে অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং কর্মচারিদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, শিক্ষাবোর্ডের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযুক্ত ইফতেখার আলম বাবু, বাইরুল ইসলাম ও বেনজির আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সম্প্রতি চারটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, অধ্যক্ষ নিয়মিত অফিস করেন না -এ কারণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে কক্ষে তালা দেয়। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনগতভাবে সমাধান করতে হবে। বেআইনিভাবে প্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে অচল করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত করার অধিকার কারো নেই বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট