নওগাঁয় পশুখাদ্য মিলে অভিযানেতোপের মুখে ম্যাজিস্টেট, জরিমানা

নওগাঁয় পশুখাদ্য মিলে অভিযানেতোপের মুখে ম্যাজিস্টেট, জরিমানা

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ সদর উপজেলায় অবৈধভাবে পশুখাদ্য উৎপাদন মিলে অভিযান পরিচালনার সময় তোপের মুখে পড়েন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে এসময় মিল মালিক ওমর ফারুক (তপন) পশুখাদ্য উৎপাদনের স্বপক্ষে প্রমাণস্বরুপ কোন ধরনের লাইসেন্স বা কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সদর উপজেলার রজাকপুর (মল্লিকা ইনের পাশে) এলাকায় সাদ গুড়া ও চালনি মিলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন- সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসান। সদর উপজেলার রজাকপুর (মল্লিকা ইনের পাশে) এলাকায়  অভিযানের সময় মিলে গিয়ে দেখা যায়- দুইটি গুদামে ধানের গুড়া(তুষ) স্তুপ করে রাখা ছিলো। সেখানে শ্রমিকরা কাজ করছিলো। এ তুষ থেকে পশু তৈরির জন্য বস্তা প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল। আশপাশের কাউকে এ কারখানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না। স্থানীয়রা অবগত না এ মিলে কি করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা শেষে জরিমানার ঠিক আগ মুহুর্তে মতিউর মতিন নিজেকে গুড়া চালনি-মালিক মালিক সমিতির উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জরিমানা না করার জন্য অনুরোধ করেন। তারা দীর্ঘদিন এভাবেই ব্যবসা করে আসছে বলে জানান।  এবিষয়টি নিয়ে এক প্রকার তর্ক-বিকর্ত হয়। প্রাণিসম্পদ থেকে লাইসেন্স করতে হবে কেন তাদেরকে আগে জানানো হলো না। এসময় সেখানে উত্তেজনা পরিবেশ তৈরি হয় এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিষয়টি নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্যকে জানানো হবে।

সহকারি কমিশনার(ভূমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসান বলেন- গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে জানা যায় রজাকপুর এলাকায় অনুমোদনবিহীন সাদ গুড়া ও চালনি মিলে পশুখাদ্য উৎপাদন করছিলো। অভিযানের সময় তার সত্যতা পাওয়ায় যায়।

এসময় মিল মালিক ওমর ফারুক (তপন) পশুখাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রমাণস্বরুপ কোন ধরনের লাইসেন্স বা কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। এ অপরাধে মিল মালিকের ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে। আর যেসব মিল এবং মালিক রয়েছেন তারা এখান থেকে যথাযথ শিক্ষা নিবে এবং অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করবেন।

এসময় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম সহ সদর থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

জরিমানাকৃত মিল মালিক ওমর ফারুক (তপন) বলেন- শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে তিনটি মলি গত প্রায় ১৫-২০ বছর থেকে ব্যবসা করে আসছি। যেখানে প্রায় ২০ জন নারী-পুরুষ কাজ করেন। সরকারি দপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হবে আমার জানা ছিলো না।

নওগাঁ গুড়া চালনি-মালিক মালিক সমিতির উপদেষ্টা মতিউর মতিন বলেন- আমরা যে এলাকায় ব্যবসা করি যা পৌরসভা বা ইউনিয়নের ট্রেড লাইসেন্স আছে। আর এভাবে আমরা গত ২৫-৩০ বছর থেকে ৩৬ জন ব্যবসায়ি ব্যবসা করে আসছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হবে এমনটা জানা ছিলো না বা কোন দপ্তর আমাদের জানায়নি। আজ অভিযানের সময় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলছেন লাইসেন্স করতে হবে। এটা আগে কেন আমাদের জানানো হলো না। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করা সহ বিষয়টি দেখবেন বলে একপ্রকার হুশিয়ারি দেন তিনি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *