রুয়েটে প্রথমবারের মতো রিভার্স ওসমোসিস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু
| | |

রুয়েটে প্রথমবারের মতো রিভার্স ওসমোসিস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) দীর্ঘদিনের আয়রনযুক্ত পানির সমস্যার অবসান হতে চলেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে আধুনিক ‘রিভার্স ওসমোসিস’ (আরও) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। এর মাধ্যমে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পানীয় জল নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নবনির্মিত চারটি আবাসিক হলÑছাত্র হল-১, ছাত্র হল-২, নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল (ছাত্রী হল-১) এবং ছাত্রী হল-২-এর ছাদে এই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের সব কারিগরি কাজ শেষ হয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর। এই প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ.এম. রাসেল। তিনি বলেন, “রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাকের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় প্রাথমিকভাবে নতুন চারটি হলে এই প্লান্ট চালু করা হয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলে আয়রনসমৃদ্ধ পানির যে দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে, এই উদ্যোগ তার কার্যকর সমাধান দিতে পারবে। ভবিষ্যতে প্রকল্পটি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

রাজশাহী অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানিতে আয়রনের মাত্রা বেশি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের মান নিয়ে ভোগান্তিতে ছিলেন। এই সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্লান্টগুলো বসানো হয়েছে।

রিভার্স ওসমোসিস হলো পানি পরিশোধনের একটি আধুনিক পদ্ধতি, যেখানে বিশেষ ঝিল্লির (মেমব্রেন) মাধ্যমে পানির ক্ষতিকর উপাদান, অতিরিক্ত লবণ ও আয়রনসহ বিভিন্ন দূষিত পদার্থ অপসারণ করা হয়। ফলে এই পানি পানের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এই প্লান্ট চালুর মাধ্যমে পানির মানগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে। পাশাপাশি দ্রুতই এই সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনগুলোতেও সম্প্রসারণ করা হবে বলে তাঁরা প্রত্যাশা রাখেন।নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার এই পদক্ষেপকে রুয়েট ক্যাম্পাসের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *