দুর্গাপুরে লোকসানের মুখে পেঁয়াজ চাষিরা
|

দুর্গাপুরে লোকসানের মুখে পেঁয়াজ চাষিরা

দুর্গাপুরে পেঁয়াজ চাষ করে এবারে পেঁয়াজের দাম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় আগাম পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন এ অঞ্চলের চাষিরা। শুরুতে কিছুটা দাম পেলেও হঠাৎ করে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।

গত রবিবার (৮ মার্চ) দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটে-বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অর্ধেক দামে। চাষিরা বলছেন এমন বাজার অব্যাহত থাকলে জমিতে থাকা পেঁয়াজে লাভের বদলে লোকশান গুনতে হবে প্রায় দ্বিগুণ।

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১ হাজার ৪৯০ হেক্টোর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি, সেচ ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে প্রতিমণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা। ফলে বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতিমণে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে চাষিদের।

উপজেলার সিংগা হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক আলম বলেন, এবারে কীটনাশক, সার ও বিভিন্ন ওষুধ বেশি দামে কিনতে হয়েছে। পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রতি মণে প্রায় ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা খরচ পড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মণ। এতে তার প্রতিমণ পেঁয়াজে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

পানানগর গ্রামের আলামিন বলেন, ‘তিনি ১০ কাঠা জমি লিজ নিয়ে পেঁয়াজের চাষ করেছেন। বীজ,সার, লেবার সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। আর সেই জমি থেকে তিনি পেঁয়াজ পেয়েছেন প্রায় ৪৫ মণ। যা বর্তমান বাজার দরে বিক্রি করলে তার লোকসান গুনতে হবে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। পেঁয়াজ চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে এবার পেঁয়াজ চাষ করেছিলোম। ভেবে ছিলাম পেঁয়াজ বিক্রি করে ঈদের বাজার হাট করবো। স্ত্রী সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কিনবো তা আর হবে না। পেঁয়াজের যে দাম তাতে করে সার,কীটনাশকের দোকানের বাকীই শোধ হবে না। ঈদটা কিভাবে কাটবে সেই দুশ্চিন্তায় আছি।’

আলিপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি ওমর ফারুক বলেন, ‘এবার বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন পেয়াজ চাষিরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় যদি ন্যায্য দাম না পাওয়া যায়, তাহলে কৃষকেরা ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এতে দেশে উৎপাদন কমে গেলে বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হবে পেঁয়াজ। চাষিরা যাতে ন্যায্য দাম পায় তা নিশ্চিত করতে হবে এ সরকারকে। এ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখা যায়না। যার কারণে বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হয় চাষিদের।’ এদিকে অনেক চাষিরা পেঁয়াজের দাম না থাকায় লাভের আশায় জমি থেকে পেঁয়াজ না তুলে জমিতেই রেখে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম মূলত বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজের দাম ভালো পেয়েছে চাষিরা। সাধারণত প্রতি বছর মোটামুটি ভালো থাকে। এ বছরে রমজান মাসে পেঁয়াজ ওঠায় দামটা কিছুটা কম। তবে কিছুদিনে মধ্যে দাম ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।’

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *