| | |

পাকিস্তান বনাম আফগানিস্তান: কোন পক্ষে হতাহত কত জন, ক্ষয়ক্ষতি কতটা

পাকিস্তান ‘অসাধারণভাবে ভালো’ করছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ওভাল অফিস, হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটন ডিসি, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, পাকিস্তান ‘অসাধারণভাবে ভালো’ করছে।

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে স্থানীয় সময় শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প এ কথা বলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে জানতে চাওয়া হয়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সংঘাতে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন কি না?

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি করতেও পারি। তবে আপনারা জানেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো—খুবই ভালো।’

‘আপনাদের (পাকিস্তানের) একজন দারুণ প্রধানমন্ত্রী আছেন। সেখানে একজন দারুণ জেনারেল আছেন। একজন শক্তিশালী নেতা আছেন। তাঁদের দুজনকে আমি খুবই সম্মান করি। আমার মনে হয়, পাকিস্তান এখন অসাধারণভাবে ভালো করছে’—যোগ করেন ট্রাম্প। খবর আল–জাজিরার।

কোন পক্ষে হতাহত কতজন, কতটা ক্ষয়ক্ষতি হলো

আফগানিস্তানের হামলায় আহত একজন নারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসক। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বাজাউরে, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মুখোমুখি অবস্থানে দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। গতকাল শুক্রবার যুদ্ধাবস্থায় জড়িয়েছে দেশ দুটি। একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের পাশাপাশি হামলা আর পাল্টা হামলায় দিনভর উত্তেজনা বজায় ছিল। হতাহত হয়েছেন বহু মানুষ। এ তালিকায় বেসামরিক মানুষেরা আছেন। দিনশেষে কোন পক্ষ কতজন হতাহতের দাবি করেছে, ক্ষয়ক্ষতি কেমন হলো, আসুন জেনে নেই—

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বিদেশি সংবাদমাধ্যমের জন্য নির্ধারিত মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানান, পাকিস্তানের অভিযানে আফগান বাহিনীর ২৯৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত ৪৫০ জনের বেশি। এ ছাড়া আফগানিস্তানের ৮৯টি সেনা চৌকি এবং ১৩৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটির ২৯টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের একজন মুখপাত্র দাবি করেন, তাদের হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। হামলায় পাকিস্তানের ১৯টি সেনা চৌকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি স্বীকার করে নেন, পাকিস্তানের হামলায় আটজন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১১ জন। আফগানিস্তানের নানগরহার প্রদেশে ১৩ জন বেসামরিক মানুৃষ আহত হয়েছেন।

তবে উভয় পক্ষের হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এসব দাবি কোনোটাই আল–জাজিরা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

‘এই সংঘর্ষ কয়েক মাসের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের ফল’

রাতভর পাকিস্তানের বিমান হামলার পর ভোরে ধ্বংসস্তূপের সামনে একজন আফগান নিরাপত্তারক্ষী। আফগানিস্তানের নানগরহার প্রদেশের গিরদি খাস গ্রামে, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান সংঘর্ষ ‘অবাক হওয়ার মতো নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রামের পরিচালক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড।

আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘এই সংঘর্ষ অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। এটি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক মাসের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের ফল।’

থ্রেলকেল্ডের মতে, পাকিস্তানের এই ‘অধিকতর আক্রমণাত্মক ও জোরালো হামলা’ সম্ভবত তাদের কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা পাকিস্তানের ভেতরে বেশ কয়েকটি বড় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটতে দেখেছি। তাই ক্রমাগত হামলার পর উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছানো এবং পরিস্থিতির এমন অবনতি হওয়া দুর্ভাগ্যজনক হলেও বিস্ময়কর নয়।’

‘টিভিতে ক্রিকেট ম্যাচ দেখছিলাম, হঠাৎ মর্টার আছড়ে পড়ে’

সালমান খান, পাকিস্তানের বাজাউর শহরের বাসিন্দা। আফগানিস্তানের সঙ্গে চলা সংঘাতে আহত হয়েছেন তিনি। হামলার সময়ের কথা আল–জাজিরার কাছে বলেছেন সালমান। তিনি জানান, বাড়িতেই ছিলেন। টিভিতে ক্রিকেট ম্যাচ দেখছিলেন। হঠাৎ একের পর এক মর্টার আছড়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগে তিনি আহত হন।

তাঁদের ওখানে পরপর কয়েকটি মর্টার আঘাত হানে। এতে আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ছোটাছুটি শুরু করেন—বলছিলেন সালমান। তিনি বলেন, ‘মর্টার আঘাত হানছিল। একটি গ্রামের মসজিদে এসে পড়ে। একটি পড়ে আমাদের সম্পত্তিতে।’

আফগান হামলায় শুধু সালমান নিজে নন, তাঁর বোন ও দুই মেয়ে আহত হয়েছেন। আল–জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছেন সালমান নিজেই।

অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্য ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি’ কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক শুক্রবার বলেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সহিংসতা বাড়ায় মহাসচিব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ সহিংসতার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে বলে মহাসচিব মনে করেন। তাই তিনি সংঘাত বন্ধ করতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক উপায়ে মতবিরোধ দূর করতে আহ্বান জানিয়েছেন। খবর আল–জাজিরার।

পাকিস্তানজুড়ে ড্রোন ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা

ড্রোন

আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে পাকিস্তানজুড়ে সব ধরনের ড্রোন ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বলা হয়েছে, নিরাপত্তা শঙ্কা থেকে বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত—সব ধরনের ড্রোন পরিচালনায় এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। খবর জিও নিউজ।

ইরানের জাতীয় পতাকা

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে ‘সংযত থাকতে’ বলল ইরান, সংলাপে সহায়তার প্রস্তাব

চলমান যুদ্ধাবন্থার মধ্যে প্রতিবেশী পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে ‘সংযত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, উভয় পক্ষকে একে অপরের ভৌগলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সেই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে বিবদমান দেশ দুটিকে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে মানা করা হয়েছে, যা উত্তেজনা আর সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে তারা প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছে। সেই সঙ্গে দুপক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়াতেও সহায়তা করতে চায় তেহরান।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

আফগানিস্তানের কান্দাহারে সতর্ক অবস্থানে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা

আফগান বাহিনীর ২৯৭ জন নিহত ও ৮৯টি সেনা চৌকি ধ্বংস, দাবি পাকিস্তানের

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একজন মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তানের অভিযানে আফগান বাহিনীর ২৯৭ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আফগানিস্তানের ৮৯টি সেনা চৌকি  এবং ১৩৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটির ২৯টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।

টোলো নিউজের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এ কথা জানিয়েছে।

এর আগে পাকিস্তানের আইএসপিআর জানিয়েছিল, ২৭৪ আফগান সেনা নিহত হয়েছে।

আফগানিস্তানের সেনাপ্রধান ফসিউদ্দিন ফিতরাত

আরও শক্তিশালী ও কার্যকর জবাব পাবে পাকিস্তান, হুঁশিয়ারি আফগান সেনাপ্রধানের

পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আফগানিস্তানের সেনাপ্রধান ফসিউদ্দিন ফিতরাত। টোলো নিউজের বরাত দিয়ে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, আফগান সেনাপ্রধান বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো হামলার ক্ষেত্রে পাকিস্তান ‘আরও শক্তিশালী এবং দৃঢ় ও কার্যকর জবাব’ পাবে।

এর আগে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আফগানিস্তানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ

সেনা সদরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, ‘জিরো টলারেন্সের’ ঘোষণা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশটির সেনা সদর পরিদর্শন করেছেন। সেখানে সামরিক নেতৃত্বের কাছ থেকে আফগানিস্তান অভিযান পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনে নেন তিনি। 

আফগানিস্তানকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেছেন, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের যে কোনো অপতৎপরতায় ইসলামাবাদের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা)। তিনি বলেন, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী সবসময় দেশ রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পাকিস্তান জানে কিভাবে যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করতে হয়।

সূত্র: আল জাজিরা

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন জানিয়েছে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে তারা জানে। এই পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

আল জাজিরা জানায়, মিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ‘আফগানিস্তানে অবস্থান করা বা ভ্রমণের চরম ঝুঁকির’ বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, মার্কিনদের আফগানিস্তান ভ্রমণ সতর্কতা এখনো লেভেল–৪ (ডু নট ট্রাভেল) এ রয়েছে। অস্থিরতা, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, বেআইনি আটক, অপহরণ এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার ঝুঁকি বিবেচনায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চলছে: পাকিস্তান

পাকিস্তান বাহিনী আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। আজ শুক্রবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, আইএসপিআরের মহাপরিচালক বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায়’ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান বাহিনী। আফগানিস্তানের ২২টি স্থানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের ১২ সেনা নিহত: পাকিস্তান আইএসপিআর

এ পর্যন্ত ১২ পাকিস্তানি সেনা নিহত ও ২৭ সেনা আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

আজ শুক্রবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান বলে উল্লেখ করেছে আল জাজিরা।

পাকিস্তানের চমন সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি ট্যাংক। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২৭৪ জন আফগান সেনা নিহত ও ৭৩টি চৌকি ধ্বংস, দাবি পাকিস্তানের

পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৭৪ জন আফগান তালেবান সেনা ও জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। এ ছাড়া অভিযানে ৪ শতাধিক আফগান সেনা আহত হয়েছেন, ৭৩টি চৌকি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৭টি চৌকি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের দৈনিক ডন জানায়, আজ শুক্রবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এসব দাবি করেন।

জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী আরও জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী আফগান বাহিনীর অন্তত ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং কামান ধ্বংস করা হয়েছে।

পাকিস্তান ‘বারবার’ যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিল, দাবি আফগানিস্তানের

পাকিস্তান ‘বারবার’ যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিল বলে দাবি করেছেন আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। আজ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তান সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চায়।

জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তান হামলা চালিয়ে যেতে থাকলে তার কঠোর জবাব দেওয়ার সামর্থ্য আফগানিস্তানের আছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছি। এতে বার্তা দেওয়া হয়েছে—আমাদের হাত তাদের গলা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।’

জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আরও বলেন, তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিষয়টি এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত অজুহাত’। আর এ বিষয়টি পাকিস্তানের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু এটি কখনোই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয়।’

আফগান সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে চলমান পরিস্থিতির সমাধান করতে চায় বলেও উল্লেখ করেন জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছি এবং এখনও সমস্যা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চাই।’

পাকিস্তানের তিন শহরে ড্রোন হামলা করেছে আফগানিস্তান: ইসলামাবাদ

পাকিস্তানের তিন শহরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। এ হামলার জন্য সরাসরি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে দায়ী করেছে ইসলামাবাদ। খবর আল–জাজিরার।

তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নওশেরা শহরে ছোট পরিসরে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। তবে পাকিস্তানি বাহিনী ড্রোনগুলো ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। ড্রোন হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটেনি।

চীনের জাতীয় পতাকা

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে আলোচনায় বসার আহ্বান চীনের

আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয় পক্ষকে ‘সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার’ আহ্বান জানিয়েছে। খবর আল–জাজিরার।

চীন আরও বলেছে, তারা নিজস্ব মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে মধ্যস্থতার জন্য কাজ করছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে তারা প্রস্তুত আছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘প্রতিবেশী ও বন্ধু দেশ হিসেবে চীন উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সংঘাতের কারণে হতাহতের ঘটনায় দুঃখিত। যে কোনো উত্তেজনাই উভয় পক্ষের ক্ষতিসাধন করবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সংঘাত থামানোর বিষয়টি উভয় দেশ ও জনগণের মৌলিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এটি অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।’

২২৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত হওয়ার দাবি পাকিস্তানের

আফগানিস্তানে ‘গজব লিল–হক’ অভিযানে এ পর্যন্ত ২২৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। আজ শুক্রবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র একথা জানান। খবর আল–জাজিরার।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ওই মুখপাত্র আরও বলেন, সংঘর্ষে অন্তত ৩১৪ জন তালেবান যোদ্ধা আহত হয়েছেন। এছাড়া তালেবানের ৭৪টি সামরিক চৌকি পুরোপুরি ধ্বংস এবং ১৮টি চৌকি পাকিস্তান সেনাবাহিনী দখলে নিয়েছে।

এর আগে আজ সকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি ১৩৩ তালেবান যোদ্ধা নিহত ও ২০০ জনের বেশি আহত হওয়ার দাবি করেছিলেন।

দুই পক্ষের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ২৭ পাকিস্তানি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দেওয়া হতাহতের এ সংখ্যার সঙ্গে তালেবান সরকারের তথ্যের বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। এর আগে তালেবান বলেছিল, তাদের মাত্র ৮ জন যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।

পাকতিকার একটি গ্রামে পাকিস্তানের বিমান হামলায় বিধ্বস্ত গাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে শিশুরা

পাকিস্তানের বিমান হামলায় পাকতিকায় ৩ জন নিহত: আফগান টিভি

আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় এক নারী ও দুই স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আফগানিস্তান ন্যাশনাল টিভির প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি বেসামরিক আবাসিক এলাকায় বোমা বিস্ফোরিত হওয়ার পর আরও সাতজন আহত হয়েছেন।

বিবিসি আলাদা করে এই দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

‘অপারেশন গজব লিল–হক’: আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার

‘অপারেশন গজব লিল–হক’ নামে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তান। এর আগে কয়েকদিন ধরে দুদেশের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছিল।

পাকিস্তানের এ অভিযান শুরুর পর দেশটির সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। ‘অপারেশন গজব লিল–হক’ ও পাল্টাপাল্টি এসব হামলাকে ঘিরে নিজ নিজ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে দেশ দুটি। এ সংক্রান্ত কিছু ছবি দেখে নেওয়া যাক।

আফগানিস্তান সীমান্তে ভারী মেশিনগান নিয়ে সতর্ক অবস্থানে এক তালেবান যোদ্ধা। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাকিস্তানের চমন সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি ট্যাংক। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চমন সীমান্তে টহল দিচ্ছেন পাকিস্তানি সেনারা। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের তোরখাম সীমান্ত ক্রসিংয়ে অবস্থান করছেন একদল তালেবান সেনা। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তোরখাম সীমান্তে পাহারায় নিয়োজিত তালেবান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাকিস্তানের হামলার পর আফগানিস্তানের কাবুলে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবিটি প্রকাশ করেছে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী

‘শুরুতে ভেবেছিলাম ভূমিকম্প, তারপর বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পেলাম’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানের কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া এলাকার খুব কাছে দাশতি বারচি এলাকার অবস্থান। সেখানকার এক বাসিন্দা বলেছেন, বিস্ফোরণের কারণে তাঁর বাড়ি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠেছিল।

ওই বাসিন্দা বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হয়েছে। কারণ কয়েক দিন আগে কাবুলে ভূমিকম্প হয়েছে। এরপর একটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই।’ খবর বিবিসির।

নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই বাসিন্দা তাঁর নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরণের পর দাশতি বারচির বাসিন্দারা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং পুরো রাত জেগে থাকেন। ভয়ে কেউ আর ঘুমাতে পারেননি।

ওই বাসিন্দা আরও বলেন, বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পর কাবুলের আকাশে জেট বিমান উড়তে দেখা গেছে। তখনকার পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘যখন আমরা জেটগুলো মাথার ওপর দিয়ে যেতে দেখলাম, বুঝতে পারলাম সেগুলো পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান।’

দাশতি বারচি এলাকার ওই বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, যে এলাকায় হামলা হয়েছে সেটি তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় চার–পাঁচ কিলোমিটার দূরে।

‘আমার স্ত্রী ও বাবা-মা খুব ভয় পেয়েছিলেন। আমরা সবাই সারা রাত জেগে ছিলাম।’ বলেন ওই বাসিন্দা।

তোরখাম সীমান্ত এলাকায় গুলির শব্দ, মর্টার হামলা 

নানগারহার প্রদেশে আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তবর্তী তোরখাম সীমান্ত ক্রসিং এলাকায় তালেবান নিরাপত্তাকর্মীরা, ২৭ ফেব্রুয়ারি

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ তোরখাম সীমান্ত এলাকার কাছে গুলির শব্দ শোনা গেছে। সেখানে মর্টার হামলার খবর পাওয়া গেছে।

আল জাজিরার সাংবাদিক কামাল হায়দার ইসলামাবাদ থেকে এমন খবর দিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিও বলেছে, আজ সকালে সীমান্ত ক্রসিং এর কাছ থেকে মর্টারের শব্দ শোনা গেছে।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, আফগান সেনারা সীমান্তের দিকে এগোচ্ছেন।

তোরখাম সীমান্ত ক্রসিংটি পাকিস্তান থেকে ফেরত আসা আফগানদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে। যদিও অক্টোবরের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের কারণে মূল স্থল সীমান্তের বেশিরভাগ বন্ধ রয়েছে।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই

আফগানরা সাহসের সঙ্গে ‘আগ্রাসনের’ জবাব দেবেন: হামিদ কারজাই

পাকিস্তানের হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। যেকোনো পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে রক্ষা এবং সাহসের সঙ্গে ‘আগ্রাসনের’ জবাব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। খবর আল–জাজিরার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আজ শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কারজাই বলেন, ‘আফগানরা সব পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থেকে মাতৃভূমি রক্ষা করবেন এবং সাহসের সঙ্গে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেবেন।’

পাকিস্তানি নীতির সমালোচনা করে হামিদ কারজাই বলেন, পাকিস্তান নিজে যে সহিংসতা ও বোমা হামলার পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তা থেকে এভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। এর পরিবর্তে ইসলামাবাদের উচিত তাদের বর্তমান নীতি পরিবর্তন করা।

সাবেক এ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘পাকিস্তানকে অবশ্যই প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পথ বেছে নিতে হবে। আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্মান ও সুসম্পর্কের নীতি অনুসরণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।’

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে লড়াই বন্ধের আহ্বান রাশিয়ার

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে আন্তঃসীমান্ত হামলা বন্ধ এবং কূটনৈতিক উপায়ে বিদ্যমান বিরোধ নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। খবর আল–জাজিরার।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা আরআইএ আজ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, দুই দেশ যদি অনুরোধ করে তবে মস্কো মধ্যস্থতা করার বিষয়টি বিবেচনা করবে।

আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের একটি আবাসিক এলাকায় হতাহতদের খুঁজছেন তালেবান নিরাপত্তা রক্ষীরা

পাকিস্তানে হামলায় ৫৫ সেনা নিহত হওয়ার দাবি তালেবানের

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বলেছে, গত বুধবার তারা ডুরাল্ড লাইন (আফগান–পাকিস্তান সীমান্ত) বরাবর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। খবর আফগান টাইমসের।

তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার রাত ৮টা থেকে শুরু হওয়া ওই অভিযান টানা চার ঘণ্টা চলে। অভিযানে পাকিস্তানের ১৯টি সামরিক চৌকি এবং ২টি ঘাঁটি দখলের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া একটি পাকিস্তানি ট্যাংক ধ্বংস ও একটি সামরিক যান কবজায় নেওয়া হয়েছে।

তালেবানের দাবি, এ লড়াইয়ে তালেবানের ৮ যোদ্ধা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে হতাহতের এ সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

গত ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানি বিমান হামলার জেরে এ পাল্টাপাল্টি আক্রমণ শুরু হয়। আফগানিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) জানিয়েছে, পাকিস্তানের ওই বিমান হামলায় নানগারহার প্রদেশে অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ও ইসহাক দার

উত্তেজনা কমাতে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর বিবিসির।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতির উন্নয়ন’ ও ‘উত্তেজনা কমানোর উপায়’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি অ্যাকাউন্টে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বর্তমানে সরকারি সফরে সৌদি আরবে আছেন।

হামলায় আহত আফগান নারীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন

পাকিস্তানের হামলার সময় আহত হওয়া কয়েকজন আফগান নারীকে আফগানিস্তানের জালালাবাদ এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। এ ধরনের কয়েকটি ছবি দেখে নেওয়া যাক।

পাকিস্তানের হামলায় আহত এক আফগান নারী জালালাবাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন
তোরখাম সীমান্তের কাছে নানগারহার প্রদেশে পাকিস্তান থেকে ফেরত আসা মানুষদের একটি শিবিরে পাকিস্তানি মর্টার শেল হামলায় আহত কয়েকজন নারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন
তোরখাম সীমান্তের কাছে নানগারহার প্রদেশে পাকিস্তান থেকে ফেরত আসা মানুষদের একটি শিবিরে পাকিস্তানি মর্টার শেল হামলায় আহত কয়েকজন নারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন
জেনেভায় এক অনুষ্ঠানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি

সংলাপের মাধ্যমে কাবুল-ইসলামাবাদকে বিরোধ মেটানোর আহ্বান ইরানের

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে তাদের মধ্যকার বিদ্যমান মতপার্থক্য সংলাপ এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। খবর আল–জাজিরার।

পবিত্র রমজান মাসের সংযম ও ইসলাম ধর্মের সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

আজ শুক্রবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি এই প্রক্রিয়ায় ইরানের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

আরাগচি বলেন, কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ সহজতর করতে, পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর করতে এবং সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তেহরান যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে

আফগানিস্তানের কোন কোন শহরে হামলা

আফগানিস্তানের যে শহরগুলোকে পাকিস্তান তাদের সবশেষ হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে সেগুলো হলো–কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকা। খবর বিবিসির।

দুই দেশের মধ্যবর্তী দীর্ঘ পার্বত্য সীমান্তের কাছাকাছি এ শহরগুলোর অবস্থান। এই পার্বত্য সীমান্ত ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার (১ হাজার ৬১৫ মাইল) দীর্ঘ।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত সংঘর্ষ ও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব দুই দেশকেই উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। খবর আল–জাজিরার।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, আন্তোনিও গুতেরেস সীমান্তে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার খবরগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন।

গুতেরেস বলেন, চলমান এই সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে উভয় পক্ষের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। গত কয়েক দিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে সীমান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ

যথাযথ ও শক্তভাবে প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে: শাহবাজ শরিফ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, তাঁর দেশের বাহিনীগুলো যেকোনো ধরনের আগ্রাসী পরিকল্পনা প্রতিহত করতে পুরোপুরি সক্ষম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাকিস্তান সরকারের অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্ট থেকে এমনটা জানা গেছে। খবর বিবিসির।

শাহবাজ শরিফ বলেছেন, ‘প্রিয় মাতৃভূমির প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। যথাযথ ও শক্তভাবে প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।’

শাহবাজ আরও বলেন, পুরো জাতি পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পাশে আছে।

পাকিস্তান সরকারের ওই এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

জাবিউল্লাহ মুজাহিদ

পাকিস্তানে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর দাবি করে দেওয়া পোস্ট সরিয়ে নিলেন তালেবানের মুখপাত্র

পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছিলেন আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তবে এখন তাঁর সেই পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। খবর বিবিসির।

গতকাল বৃহস্পতিবার আফগান বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তে দেশটির সামরিক বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে দুই সেনা নিহত হওয়ার খবর জানায় ইসলামাবাদ।

জবাবে গতরাতে কাবুল–কান্দাহারে হামলা চালায় পাকিস্তান। পরে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছেন।

পরে আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া পোস্টে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেন। তিনি লিখেছিলেন, আফগান তালেবান সদস্যরা কান্দাহার ও হেলমান্দে পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থানের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছেন।

তবে সেই পোস্টটি এখন মুছে ফেলা হয়েছে।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আগের সংঘর্ষগুলোর মতো এবারও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে আগে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে। একই সঙ্গে দুই দেশই দাবি করছে, তাদের পাল্টা হামলায় প্রতিপক্ষের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আজ শুক্রবার পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বলেছে, আফগানিস্তান কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই দেশটিতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তারা কাবুল ও কান্দাহারসহ একাধিক শহরে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

এদিকে আফগান তালেবান বলেছে, সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের চালানো হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা গতকাল ‘বড় পরিসরে’ সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তাদের দাবি, সপ্তাহের শুরুতে ওই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে ইসলামাবাদ বলেছে, তারা শুধু কথিত সন্ত্রাসী শিবির ও আস্তানাই লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তালেবানের সামরিক মুখপাত্র মৌলভি ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মদি বলেছেন, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে এই ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’ শুরু হয়।

তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, এ অভিযানে ‘অনেক’ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।

২৭টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস ও ৯টি দখলের দাবি পাকিস্তানের 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত আফগান তালেবানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই অভিযানে তালেবানের ৮০টিরও বেশি ট্যাংক, কামান এবং অস্ত্রধারী সৈন্যবাহী যান (এপিসি) ধ্বংস করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

পাকিস্তানের সেনা অভিযানে ১৩৩ জন তালেবান নিহতের দাবি 

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহার শহরে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। পরে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে সামাজিকমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১৩৩ জন আফগান তালেবান নিহত হয়েছে এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছে। তবে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।

আজ শুক্রবার ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে (গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) খাজা মোহাম্মদ আসিফ পোস্টে লেখেন, পাকিস্তান সরাসরি ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও লেখেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এখন তোমাদের সঙ্গে আমাদের প্রকাশ্য যুদ্ধ।’

 কাবুলে আল–জাজিরার সংবাদদাতা নাসের শাদিদ জানান, আজ স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে কাবুলে বোমা ফেলেছে পাকিস্তানি বাহিনী। পরে আবারও বোমা ফেলা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে এখনো হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *