ম্যারাডোনার কঠিন শর্তের কারণে আগের দিনই স্পষ্ট হয়েছিল, তাঁর আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে থাকাটা হয়তো হচ্ছে না। হয়েছেও তাই, দ্বিতীয় মেয়াদে ম্যারাডোনাকে কোচ হিসেবে না রাখার ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এনএনবি
আর্জেন্টিনার দৈনিক বুয়েনস এইরেস হেরাল্ড জানিয়েছে, সোমবার এএফএর সভাপতি হুলিও গ্রন্ডোনার সঙ্গে বৈঠকে কঠিন শর্ত জুড়ে দেন ম্যারাডোনা। শর্ত ছিল, কোচ হিসেবে থাকবেন, কিন্তু দলের কোনো কোচিং স্টাফকে সরিয়ে দেওয়া যাবে না। ম্যারাডোনার এ শর্তের সঙ্গে একমত হতে পারেনি এএফএ। গ্রন্ডোনার রিপোর্টের আলোকে মঙ্গলবার এএফএর নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ম্যারাডোনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেই সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়, ম্যারাডোনাকে দ্বিতীয় মেয়াদে কোচ হিসেবে রাখা হবে না।
এএফএর মুখপাত্র আর্নেস্তো চেরকুইস বাইয়ানো বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ম্যারাডোনার চুক্তি সর্বসম্মতিক্রমে না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাহী কমিটি। ম্যারাডোনা যে শর্ত দিয়েছেন তা পূরণ করা এএফএর পক্ষে সম্ভব নয়।’ বৈঠকে ম্যারাডোনার উত্তরসূরি নির্বাচন করা হয়েছে কি না প্রশ্নে বাইয়ানো বলেন, ‘ম্যারাডোনার উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ সার্জিও বাতিস্তা।’
২০০৮ সালের নভেম্বরে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেন কিংবদন্তি ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালে অধিনায়ক হিসেবে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন, স্বপ্ন ছিল কোচ হিসেবে দেশকে আরেকটি শিরোপা এনে দেওয়ার। কিন্তু ভাগ্য তাঁর সহায় হয়নি। ১৫ ম্যাচে মাত্র আটটিতে জয় এনে দিতে পেরেছেন তিনি, হেরেছেন সাতটি ম্যাচে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপ ফুটবলে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা। এরপর থেকেই কোচ হিসেবে ম্যারাডোনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ম্যারাডোনার সঙ্গে নতুন করে সমঝোতায় আসতে ব্যর্থ হয়েছেন জানিয়ে এএফএ প্রেসিডেন্ট জুলিয়ো গ্রন্ডোনা বলেন, কাউকেই বরখাস্ত করা হয়নি, শুধু চুক্তি নবায়ন করা হয়নি। কেননা তা করার মতো পরিস্থিতি ছিলো না।
১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা ছিলো ম্যারাডোনার। ওই সময় তিনি সবার নজরে আসেন এবং তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তবে ১৯৯০ সালে দেশকে ফাইনালে নিয়ে গেলেও কাপ জয়ে ব্যর্থ হন তিনি।
২০০৮ সালের নভেম্বরে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেন কোচ ম্যারাডোনা। ১৮ মাসের ক্যারিয়ারে এই কিংবদন্তির সাফল্য খুব বেশি নেই। তার আগে দলে ডেকেছেন প্রায় ১০০ জন ফুটবলার। খেলিয়েছেন বিভিন্ন কৌশলে।
ম্যারাডোনার বিভিন্ন শর্ত আলোচনার পাশাপাশি এএফএ তার কোচ হওয়ার পর গত ১৮ মাসের সাফল্য-ব্যর্থতাও বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়। ম্যারাডোনার কোচিং স্টাফের সাতজনকে বাদ দেয়ার কথা বলেন গ্রনডোনা।
কিন্তু ম্যারাডোনা রাজি হননি। এ অবস্থায় ম্যারাডোনা নাকি গুডবাই বলে আলোচনার টেবিল ছেড়ে চলে যান। বিশ^কাপজয়ী অধিনায়কের ভবিষ্যত তখনই ঠিক হয়ে যায়।
আর্জেন্টিনার আপদকালীন কোচ বাতিস্তা
আপদকালীন সময়ের জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কোচ হয়েছেন অনুর্ধ-২০ দলের দায়িত্বে থাকা সার্জিও বাতিস্তা। দায়িত্ব পেয়েই তিনি আগামী মাসে ডাবলিনে অনুষ্ঠেয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছেন। যে দলে মেসি, তেভেজ, হিগুইয়েন, মাসচেরানো, মিলিতো, বোলাত্তি, স্যামুয়েল, হেইঞ্জ,, গুত্তিরেজ, ডেমিচেলিসসহ বিশ্বকাপে খেলা প্রায় সবাই রয়েছেন। এর আগে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়া হয়, ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে নতুন করে আর চুক্তি হয়নি। কারণ ফেডারেশনের সঙ্গে তার আলোচনা ভেঙে গেছে। নতুন করে দায়িত্ব নেয়ার আগে কঠিন শর্ত দেন ম্যারাডোনা। জানিয়ে দেন, কোচ হিসেবে থাকবেন, কিন্তু দলের কোনো কোচিং স্টাফকে সরিয়ে দেয়া যাবে না। সেই শর্তে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) একমত হয়নি। এরপরই ফেডারেশনের বিশেষ নির্বাহী কমিটি নতুন কোচ নিয়োগে একমত হয়। এদিকে বহুল প্রচারিত আর্জেন্টাইন দৈনিক ‘ক্লারিন’- এর শিরোনাম ‘হুলিও গ্রান্ডোনা বেরিয়ে যাওয়ার দরজাটা দেখিয়ে দিলেন ম্যারাডোনাকে।’ ‘লা ন্যাসিওন’ – এর শিরোনাম ‘ম্যারাডোনা অধ্যায়ের সমাপ্তি। সবগুলো শিরোনামের অর্থ একটাই, ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর আর্জেন্টিনার কোচ নেই। এনএনবি