বদলগাছী প্রতিনিধি:
বদলগাছীতে অতিরিক্ত লোডশেডিং-এর কারণে এমপির নেতৃত্বে পল্লীবিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান করতে না পারলে বদলগাছী অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলীর আল্টিমেটাম দিয়েছে। জানা যায়, গত ২৭ জুলাই মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের সময় সংসদ সদস্য ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী উপজেলা পরিষদ মসজিদে নামাজ আদায় করছিল। এ সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য মসজিদের মুসল্লি ও তার দলবল নিয়ে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে। এ সময় গেট বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ অফিসের পিছনের গেট ধাক্কা দিয়ে খুলে ভিতরে প্রবেশ করে উপস্থিত জুনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ-এর নিকট লোডশেডিং-এর কারণ জানতে চায়। সঠিক জবাব না পেয়ে সংসদ সদস্য ড. আকরাম হোসেন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। সেখানে জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বদলগাছীতে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং-এর অভিযোগ তুলে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস ত্যাগ করার আল্টিমেটাম দেন। এ বিষয়ে বদলগাছী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী জুনিয়র প্রকৌশলী মামুনুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে তাকে না পেয়ে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, সংসদ সদস্যসহ উত্তেজিত জনতা অফিসের পিছন গেট দিয়ে আবসিক রুমে প্রবেশ করে ডাইনিং টেবিলে রাখা শবে বরাতের খাবার জিনিসপত্র ছুঁড়ে ফেলেন এবং তাকেসহ তার স্টাফদের গালিগালাজ করেন। ওই অফিসের অপর কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম-এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একই কথা জানান। ঘন ঘন লোডশেডিং-এর ঘটনা সম্পর্কে নওগাঁ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জিএম রেজাউল হক-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন ইচ্ছাকৃত ভাবে বদলগাছী থেকে বা নওগাঁ বিদ্যুৎ অফিস থেকে লোডশেডিং দেওয়া হয়নি। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় যে লোডশেডিং হয়েছে তা সরাসরি ঢাকা থেকে দেওয়া হয়েছে। তারপরও ঘটনাটি সংসদ সদস্য না জেনে একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে এধরনের ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন। এঘটনায় গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বদলগাছী পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।