রাজধানীর শাহবাগে সুমন (২২) নামে জুতার কারখানার এক কর্মচারিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রামপুরায় পাখি আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শাহআলীতে প্রকাশ্যে রিক্সা থামিয়ে ছিনতাইকারীরা মনি আক্তার (২৪) নামে সমিতির এক কর্মীকে কুপিয়ে ৫০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়েছে। গতকাল পুলিশ ও হাসপাতাল সুত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এনএনবি
পুলিশ জানায়, গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে ৪ টায় পুলিশ শাহবাগ থানাধীন ৯/২, আনন্দ বাজারস্থ রিজিয়া জুতার কারখানার ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে মর্গে হাজির হয়ে তার বাবা মো: জঙ্গু মিয়া লাশ দেখে তার পুত্র সুমন বলে সনাক্ত করেন। দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তার বাবা পুত্রের লাশ গ্রহন করে গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সাদিরচরে নিয়ে গেছেন। নিহতের পারিবারিক সুত্র সংবাদ সংস্থা এনএনবিকে জানায়, নিহত সুমন দীর্ঘদিন যাবৎ পুরান ঢাকার বংশাল থানাধীন সিক্কাটুলীস্থ নাজিমুদ্দিনের জুতার কারখানায় কাজ করতো। ওই কারখানায় কাজের পাশাপাশি সে নিজেও জুতাসহ অন্যান্য সামগ্রী সাপ্লাইয়ের ব্যবসা করতো। বেশ কিছুদিন আগে সে ব্যবসার জন্য গ্রামের বাড়ি হতে ৯ হাজার টাকা আনেন। ঈদের আগেই পন্য তৈরি করে বাজার ধরতে জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য ওই টাকা তার সাথে রেখে কারখানায় অবস্থান করে। এরপর ওই টাকা জরুরী প্রয়োজনের কথা বলে কয়েকজন কর্মচারি টাকাগুরো ধার নেয়। এরপর সে ওই টাকার জন্য তাদের চাপ দিয়ে আসছিল। সম্প্রতি টাকার লেনদেন নিয়ে সহকর্মীদের সাথে তার ঝগড়াও হয়। গত মঙ্গলবার রাত আড়াইটায় টাকা দেয়ার কথা বলে ওই কারখানা হতে কর্মচারি জাকির, হাবিব ও রহিম তাকে ডেকে শাহবাগস্থ ৯/২,আনন্দ বাজারের রিজিয়া জুতা তৈরির কারখানায় নিয়ে যায়। সেখানে পুর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সন্ত্রাসীসহ জাকির, হাবিব ও রহিম ধারালো ছোরা চাপাতি দিয়ে সুমনকে মেঝেতে ফেলে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ রেখে নির্বিঘেœ পালিয়ে যায়। পরে কারখানার মালিক রিজিয়া দরজার নিচে রক্ত দেখে সন্দেহ করেন। এরপর তিনি দরজা খুলে তার লাশ দেখে থানায় জানায়। তারা পুলিশের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে মর্গে এসে লাশ সনাক্ত করেন। পুলিশ বলেছে, পুর্ব শত্র“তার জের ধরে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টির তদন্ত ওজড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ পুর্ব রামপুরার ৪ তলা ছাদের সিঁড়ি সংলগ্ন বাথরুমের দরজা ভেঙ্গে ঝড়নার পাইপের সাথে গলায় ওড়না বাঁধা অবস্থায় কিশোরী গৃহপরিচারিকা পাখি আক্তারের লাশ উদ্ধার করে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। গৃহকর্তা পুলিশকে বলেছে, সংসারের অভাব অনটনের কারনে অভিমান করে পাখি আত্মহত্যা করেছে। নিহতের পারিবারিক ও স্থানীয়রা বলেছেন, গৃহকর্তা দম্পতি তাকে নির্যাতন করে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছে। পুলিশের ধারণা, তার মৃত্যুর ঘটনা রহস্যজনক হতে পারে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। জানা গেছে, নিহতের বাবার নাম মোহাম্মদ আলী হোসেন। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাজা মেহেরে। এদিকে ছিনতাইয়ের শিকার মনি বেগমের স্বামী মোতালেব হোসেন জানান, তিনি সপরিবারে থাকেন শাহআলীর মিরপুরের মাজার রোডের দ্বিতীয় কলোনীর ১২১/১ নং বাড়িতে। তার স্ত্রী মনি বেগম স্থানীয় একাধিক রেস্টুরেন্ট মালিকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সমিতির মাঠ কর্মী হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন হোটেল হতে উত্তোলন করা নগদ ৫০ হাজার টাকা মিরপুর-১ এর স্বাধীন বাংলা সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় সমিতির অফিসে জমা দেয়ার জন্য গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় বাসা হতে বের হয়ে রিক্সাযোগে যাচ্ছিল। রিক্সাটি শাহআলী মাজারের গেট সংলগ্ন কাঁচা বাজারের সামনে পৌঁছুলে ৪/৫ জন ছিনতাইকারী রিক্সার গতিরোধ করে। এসময় দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গলার চেইন, একজোড়া কানের দুল, ছিনিয়ে নেয়। তখন ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে হাতে থাকা সমিতির ৫০ হাজার টাকাভর্তি ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পারিয়ে যায়। পরে তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থল হতে তার স্ত্রীকে জখমী অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দিয়েছেন। পুলিশ এর সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, বিষয়টির তদন্ত চলছে, মামলা হচ্ছে।