সোহেল মাহবুব:
আমনের ভরা মৌসুম পেরিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পানির অভাবে রাজশাহীর কৃষকেরা জমিতে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না। এতে এ বছর এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি থাকবে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন কৃষক এবং বিশেষজ্ঞরা। এদিকে এখনো এলাকার খাল-বিল, পুকুর-ডোবা পানিতে ভর্তি না হওয়ায় পাট চাষীরাও পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এসব জলাশয়ে জাগ পানি না পেয়ে পাটের বয়স হয়ে গেলেও কৃষকেরা পাট কাটতে পারছেন না। আবার পাট কেটে যারা ঐ জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করবেন তারা আরো বিপাকে পড়েছেন। তারা না পারছেন পাট কাটতে না পারছেন আমন ধানের জমি তৈরী করতে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রোপা আমন ধানের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হচ্ছে জুলাই মাস। এ সময়ের মধ্যে চারা রোপণ করলে সবচেয়ে ভাল ফলন পাওয়া যায়। এরপরেও আগস্ট মাস পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়। কিন্তু ঐ সময়ে ফলন অনেক কমে যায়। বৃষ্টি নির্ভর রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরী করে রাজশাহীর কৃষকেরা অধির আগ্রহে বসে আছে আকাশের পানে চেয়ে। সময় পেরিয়ে গেলেও জমি তৈরী করে চারা রোপণ করতে না পেরে কৃষকেরা চরম হতাশায় ভুগছেন। য়ারা সেচ দিয়ে কোন মতে জমিতে চারা রোপন করেছেন তাদের জমি রোদে শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে।
পবার বিলনেপালপাড়ার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি এবছর ৮ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করবেন বলে বীজতলা তৈরী করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে তিনি জমি জাবাড় করতে পারছেন না। আমন ধান চাষের উপযুক্ত সময় পার হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, রোপা আমন ধানের উপর তার সংসার নির্ভরশীল। বৃষ্টির অভাবে এ ধানের চাষ না করতে পারলে তার চরম দুর্দিন নেমে আসবে বলে তিনি জানান। মোহনপুরের ধান চাষী আসগর আলী জানান, তিনি ৫ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করবেন বলে বীজ তলা তৈরী করেছেন। কিন্তু পানির অভাবে এখনো তিনি চারা রোপন করতে পারেন নি। এদিকে তার বীজতলার বয়স বেশী হয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, বীজতলার বয়স বেশী হয়ে গেলে চারা গিট হয়ে যায়। এতে ঐ চারা পরবর্তীতে জমিতে লাগানোর জন্য তুলতে গেলে ভেঙ্গে যায়। কোন মতে তুলে তা লাগালেও তা থেকে কুশি কম হয়। ফলে ফলন কমে যায়।
রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি নির্ভর রোপা আমন ধান চাষের উপযুক্ত সময় এখন। এ সময়ের মধ্যে জমিতে চারা রোপণ করতে হবে। তাহলে ভাল ফলন পাওয়া যাবে। সূত্র জানায়, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট এ আট জেলায় চলতি মৌসুমে ৭ লাখ ৯২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ থেকে হেক্টর প্রতি ২.৪৫ মেট্রিক টন হারে মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন চাল। সূত্র জানায়, উপযুক্ত সময় পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত মাত্র ২৫ ভাগ জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। এতে উপযুক্ত সময়ের মধ্যে চাষ করতে না পেরে অনেক জমি অনাবাদি থাকবে বলে কৃষি বিভাগের অনেক কর্মকর্তা আশংকা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ধান চাষীরা এবছরও রোপা আমন ধান চাষের জন্য গত বছরের মত ১’শ ঘন্টার কর্মসূচী চালু করার দাবি করেছেন। কৃষকেরা জানান, অতিরিক্ত খরচের কারণে এছাড়া সেচ দিয়ে আমন ধানের আবাদ করা বেশীর ভাগ কৃষকের সম্ভব হবে না। এতে এবছর বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি থেকে যাবে।