অপু বিশ্বাস এখন ঢালিউডে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় নায়িকা। ২০০৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘কাল সকালে’ ছবিতে একটি ছোট্ট চরিত্রে অভিনয় করে সবার নজর কাড়েন। ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি প্রায় শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত প্রায় ছবিই ব্যবসাসফল হয়েছে। দীর্ঘ চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি পেয়েছেন অগণিত ভক্তের ভালবাসা ও সম্মান। ঢালিউডের সেরা অভিনেত্রী মৌসুমী, শাবনূর, পূর্ণিমা যখন অভিনয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলেন, ওই সময় অপু চলচ্চিত্রে এসে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে ফেলেন। বর্তমানে তিনি ঢালিউড দাবড়ে বেড়াচ্ছেন বলা চলে। হাল সময়ে প্রায়শই শোনা যায় অপু বিশ্বাস শাকিবের কাঁধে ভর করে চলেছেন। সত্যিই কি তাই? এ প্রসঙ্গে অপু বলেন, ‘বাংলাদেশে শাকিব ছাড়া আর কোনও নায়কের ছবি ব্যবসাসফল হয়? প্রযোজকরাই তো ১ টাকা খরচ করে ২ টাকা লাভের আশায় আমাকে ছবিতে নেয়। এতে আমার কিছুই করার থাকে না।’ দেখা যাচ্ছে বর্তমানে মুক্তিপ্রাপ্ত বেশিরভাগ ছবিতে আপনার বিপরীতে শাকিব খান। একটু ভিন্নতা আনতে নতুন নায়কের সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন। প্রশ্নোত্তরে অপু বলেন, ‘দেখুন, আমি তো নতুন জুটি বাঁধতেই চাই। কিন্তু প্রযোজকরা এ ঝুঁকি নিতে চান না। ইমন, রিয়াজের সঙ্গে ছবি করেছি। দর্শক ছবিগুলো গ্রহণ করেনি।’ বর্তমানে চলচ্চিত্রের অবস্থা জানতে চাওয়া হলে অপু বলেন, ‘এখন ছোট পর্দার নায়িকারা চলচ্চিত্রে এসেছেন। এটা খুবই ভালো। কিন্তু সেই তুলনায় নায়ক আসছে না। শাকিব নতুন নায়িকা নিয়ে ছবি করছেন। আমিও চাই নতুন নায়ক নিয়ে ছবি করতে। ইচ্ছা থাকলেই সব সম্ভব হয় না। এখনকার ছবিগুলোর বাজেট অনেক বেশি। বৈচিত্র্যের জন্য বিদেশেও শুটি; হচ্ছে। সব মিলিয়ে চলচ্চিত্র শিল্প ভালো অবস্থানে আছে।
বর্তমানে অপু বিশ্বাসের হাতে রয়েছে প্রায় ডজনখানেক ছবি। কাজ চলছে বদিউল আলম খোকনের ‘একবার বল ভালবাসি’, সোহানুর রহমান সোহানের ‘এক মন এক প্রাণ’, এসবি মানিকের ‘তোর কারণে বেঁচে আছি’, মালেক আফসারীর ‘মনের জ্বালা’ ইত্যাদি। আসন্ন ঈদে অপু অভিনীত প্রায় পাঁচটি ছবি মুক্তির মিছিলে রয়েছে। এর মধ্যে ‘চাচ্চু আমার বাচ্চু’, ‘নিঃশ্বাস আমার’। এবারের ঈদের ছবি নিয়ে অপু বলেন, ‘সবাই খুব দ্রুততার সঙ্গে ছবির কাজ শেষ করছেন। বেশিরভাগ ছবির কাজ শেষ পর্যায়ে। এবারের ঈদের ছবিগুলো প্রতিটি দর্শকেরই ভালো লাগবে।’ সৌন্দর্য, ব্যবহার আর অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি অগণিত ভক্তের মনে ঠাঁই করে নিয়েছেন তিনি।