তিশা নামটি স্বকীয়তায় উজ্জ্বল। হালকা মানের কোনো নাটকে কাজ করতে এখন তিনি আগ্রহ খুঁজে পান না। নাটকের পথ মাড়িয়ে তিশা ইতোমধ্যে চলচ্চিত্রে পা রেখেছেন। সেখানেও সাফল্য পেয়েছেন ব্যাপকভাবে।
একজন অভিনয়শিল্পীকে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে যতটা কষ্ট করতে হয় তার চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয় সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে। জনপ্রিয় একজন শিল্পীর কাছে দর্শকদের প্রত্যাশার মাত্রা দিনকে দিন বাড়তে থাকে। নুসরাত ইমরোজ তিশার কাছেও বিষয়টি একইরকম। নিজের অর্জিত অবস্থানকে ধরে রাখার পাশাপাশি তা আরো সমৃদ্ধ করতে তিশা এখন তার ভাবনা ও কাজের ধারা পাল্টে ফেলেছেন। তিশা বললেন, ‘আর্টিস্টরা আসলে একটু লোভী প্রকৃতির হয়। একটি চরিত্রে কাজ করার পর মনে হয় ঐ চরিত্রে যদি কাজ করতে পারতাম। চরিত্র চুজিংয়ের কোনো শেষ নেই। আমরা অনেকটা নিডি টাইপের। আমি এখন ভিন্ন চরিত্র কাজ করতে আগ্রহী। আনকমন, অফট্র্যাকের কিছু স্ক্রিপ্ট আমি খুঁজছি। যে স্ক্রিপ্টে ইমোশন আছে, ট্র্যাজেডি, রোমান্স, বেসিক্যালি রিয়েলিটি আছে- এ ধরনের কাজ খুঁজছি। দু’জন ছেলেমেয়ে কাছাকাছি হলো”একে অপরকে ফুল দিল, তাদের প্রেম হলো”এ ধারার কাজের প্রতি আমি মনোযোগী নই। আমার দর্শকরাও নিশ্চয়ই আমার কাছে এখন ভিন্নধর্মী কাজ আশা করেন।’ কাজ নিয়ে তিশার এমন ভাবনাই তাকে আগামীতে আরো পরিশীলিত জায়গায় পৌঁছে দিবে। শুধু দর্শকরাই নন, তিশার কাজ আজ তার নির্মাতাদেরও মুগ্ধ করে ভিন্ন আঙ্গিকে। তিশার আজকের অবস্থানের পেছনে রয়েছে অনেক কাঠখড় পোড়ানোর গল্প। তিশার কথায়, ‘আমি যখন মিডিয়াতে কাজ শুরু করি কখনও ভাবিনি যে, অভিনয়টা প্রফেশনালি করতে হবে। নতুন কুঁড়িতে গোল্ডকাপ পাওয়ার পর সবাই বলল, একটা দুটো নাটক করতে পারো। আমার প্রথম নাটক অনন্ত হীরার রচনা ও আহসান হাবীবের পরিচালনায় ‘সাতপৌরের কাব্য’। তারপর করলাম সেলিনা হোসেনের ‘ফিরে দেখা’।
তিশার অভিনয় জীবনের টার্নিং পয়েন্ট অরণ্য আনোয়ারের ‘অতঃপর নূরুলহুদা’। আর মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘সিক্সটি নাইন’ নাটকটি প্রমাণ করেছে যে তিনি অভিনয়ের গভীরে যেতে পেরেছেন। তিশা তার সেরা কাজের গল্প নিয়ে বললেন, ‘আমি কখনই আমার কাজ দেখে সন্তুষ্ট হতে পারি না। আমি যখন নাটক দেখতে বসি তখন কেউ ‘টু শব্দ’ করতে পারে না। নিজের কাজ দেখলে আমার কাছে ভুলগুলোই বেশি ধরা পড়ে। আমি দর্শকদের পছন্দের কাজের কথা বলতে পারি। কারণ একজন শিল্পীর কাছে তার প্রতিটি কাজই সন্তানের মতো। কোনো মা-বাবা বলতে পারবে না যে, তার এই সন্তানটা ভালো, এটা মন্দ। আমি যে নাটকগুলোর মাধ্যমে দর্শক রিপারকেশন বেশি পেয়েছি এগুলো হলো ক্যারাম, সুলতানা বিবিয়ানা, ওয়েটিং রুম, নীলাঞ্জনা, ঘুড্ডি, গোলাম সোহরাব দোদুলের অনেক নাটকে সাড়া পেয়েছি। এই মুহূর্তে নাটকগুলো মনে পড়ছে না। অরণ্য আনোয়ারের ‘নূরুলহুদা’ ইটস এ বিগ অপরচুনেটি ফর মি। ফোর টুয়েন্টি, সিক্সটি নাইন, কাননে কুসুম কলি, এখন ‘বাবার হোটেল’ নাটকের জন্য ভালো রেসপন্স পাচ্ছি। দাহ, কফি হাউজ, গ্রে স্কেল, মুনিরা মফস্বল, কুসুম ও কীট, মূর্খ মফিজের গল্প, মনিহারা, আলভী আহমেদ ও সকাল আহমেদের অনেক নাটকের দর্শক সাড়া প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পেয়েছি।’
টিভি পর্দায় কাজের শুরু থেকেই তিশা চলচ্চিত্রের অফার পেয়ে আসছিলেন বেশ জোরেশোরেই। কিন্তু বরাবরই তিশা চলচ্চিত্রে কাজের প্রস্তাবগুলোকে দু’হাতে ঠেলে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে তিনি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ ছবিতে কাজ করে দর্শকদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন। ইতোমধ্যেই ছবিটি এশিয়ার অন্যতম দুটি চলচ্চিত্র উৎসব ‘পুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’ ও ‘আবুধাবির’ মিডল ইস্ট ইন্টান্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ প্রদর্শিত হয়েছে। এ ছবির দর্শক সাড়া নিয়ে তিশা বললেন, ‘আমি যখন এ ছবির প্রিমিয়ার শো’তে যাই আবুধাবিতে, আমার মনে আছে আমি ফিল্মটা দেখে হোটেলে এসেছে সাগর মামা ও মামি (ফরিদুর রেজা সাগর ও তার স্ত্রী কনা রেজা) সরয়ার ভাই (মোস্তফা সরয়ার ফারুকী) সবাইকে বললাম, বেসিক্যালি আপনারা ছবির কাজের জন্য আমার প্রশংসা করলেও আমার কেন জানি মনে হয় আমি কিছু কিছু জায়গায় প্রপারটা দিতে পারিনি। আমার দুর্বলতা ছিল। আমি আরো ভালো করতে পারতাম। আমার কথা শুনে তারা হেসেছেন। এ ছবিতে আমাদের পারফরমেন্স নিয়ে ‘ভ্যারাইটিস ম্যাগাজিন’ বলেছে, কাজ করে যাও আমরা তোমাদেরকে প্রতি বছর দেখতে চাই। বাংলাদেশের মতো একটি জায়গায় এত সাহসিকতা নিয়ে এত ন্যাচারাল অ্যাকটিং আমরা আশা করিনি। ছবিতে তিশা তোমাকে অনেক ইনোসেন্ট ও সুন্দর লেগেছে।’